উৎপাদনের সময় উচ্চ কার্বন নিঃসরণ হয়, এমন পণ্য আমদানির ওপর নতুন একটি পরিবেশগত শুল্ক আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ কারণে চাকরি হারানোর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে ইউক্রেনের লক্ষাধিক মানুষ। ইউক্রেনের ফেডারেশন অব এমপ্লয়ারসের পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এ শুল্ক ইউক্রেনের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। খবর আরটি ইন্টারন্যাশনাল।
উচ্চ দূষণকারী ও সাধারণত কম খরচে তৈরি বিদেশী পণ্যগুলো যেন ইইউর সবুজ রূপান্তর বা কার্বনমুক্ত শক্তির উৎসে রূপান্তরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) চালু হয়েছে। গত শুক্রবার সিবিএএম প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইইউর শুল্কটি ইউক্রেনের প্রধানত কার্বননির্ভর প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল ইস্পাত, রাসায়নিক ও সিমেন্ট খাতের ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
ইউক্রেনের ইস্পাত দড়ি ও তন্তু প্রস্তুতকারী কোম্পানি স্টকানাটের সিইও সের্গেই লাভরিনেনকো বলেন, ‘সিবিএএম বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনিশ্চয়তা, অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ও তথ্যের অভাব।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে সিবিএএম। কারণ ইউক্রেনের অর্থনীতি রফতানি বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইউক্রেনের ফেডারেশন অব এমপ্লয়ারস সতর্ক করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ও রফতানি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর মধ্যে ইইউতে রফতানি ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে।
ইইউ উৎপাদকদের বিদেশী প্রতিযোগীদের কাছে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে এ নতুন নীতি। সেই সঙ্গে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রক্রিয়া আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করতে পারে, যাতে তারা ইইউর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও শুল্ক মওকুফ করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এ শুল্ক প্রকল্পকে প্রয়োজনীয় বলে ইইউ দাবি করলেও কিয়েভ বলছে, এ নীতি তাদের শিল্পগুলোকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দেবে।
লাভরিনেনকো বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না আমাদের পণ্যের জন্য ইইউতে নির্ধারিত গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে সীমা কত হবে এবং এ সীমাগুলো কীভাবে পরিবর্তন হবে। সিবিএএম সনদপত্রের জন্য ব্যয় কত হবে বা শুল্ক দ্বারা প্রভাবিত পণ্যের তালিকা কীভাবে বাড়ানো হবে সে ব্যাপারেও নিশ্চিত নই আমরা।
ইউক্রেন এখন সিবিএএমের বাস্তবায়নে ছাড় বা অন্তত বিলম্ব চাচ্ছে। সিবিএএম বাস্তবায়নের কারণে সৃষ্ট প্রভাব কমানোর জন্য ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এমন শিল্পগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানাচ্ছেন, যেগুলো ইইউয়ের পরিবেশগত চাহিদা পূরণে প্রস্তুত নয়।’
কিয়েভের দাবি, ইইউর কাছে শুল্কের প্রভাব কমানোর সমস্ত আইনগত উপায় রয়েছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইইউ এখন রয়েছে একটি সন্ধিক্ষণে। কারণ ইইউর বৃহত্তর জলবায়ু পরিকল্পনার মূল অংশই হচ্ছে সিবিএএম—যার মধ্যে ইউক্রেনের সবুজ পুনর্গঠনে সহায়তা করার লক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত।